পুরুষ কিংবা মহিলা কারোই প্রস্রাবের বেগ আটকে রাখা ঠিক নয়

বাসায় টিভিতে সিরিয়াল দেখছেন কিংবা অফিসে কোনো মিটিংয়ে ব্যস্ত, এমন সময় প্রাকৃতিক ডাক আসতেই পারে। মস্তিষ্কে সংকেত এল টয়লেটে যাওয়া দরকার। ব্লাডার বা মূত্রথলিতে ইউরিন জমে তলপেটে চাপ শুরু হয়ে গেছে।

আপনি মস্তিষ্কের সংকেত অগ্রাহ্য করলেন কিংবা প্রস্রাবের বেগ আটকে রাখলেন। টিভিতে সিরিয়াল শেষ হওয়ার অপেক্ষায় টয়লেটে গেলেন না। কিংবা যেখানে আছেন সেখানকার টয়লেট ব্যবহার করতে অস্বস্তিবোধ করায় কাউকে বলতেও পারছেন না।

পুরুষদের জন্য বিভিন্ন জায়গায় পাবলিক টয়লেট থাকলেও মহিলাদের জন্য সে সুযোগ খুবই কম। দুপুরে প্রস্রাবের বেগ এলে তা আটকে রাখেন বাসায় যাওয়া পর্যন্ত। আপনি যদি নিয়মিত এ অভ্যাস চালিয়ে যান তবে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি অপেক্ষা করছে আপনার জন্যে। চলুন তা জেনে নেওয়া যাক।

কিডনিজনিত সমস্যার অনেকগুলো কারণের একটি হচ্ছে, প্রস্রাবের বেগ দীর্ঘসময় আটকে রাখা। একজন স্বাভাবিক ও সুস্থ মানুষের দৈনিক কমপক্ষে ৭-৮বার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন পড়ে প্রস্রাব করার জন্য। এটা স্বাভাবিক ঘটনা। এর চেয়ে যদি কম যাওয়া হয় তবে ধরে নিন আপনার শরীরে প্রয়োজন অনুযায়ী পানি পান করা হচ্ছে না।

শরীর থেকে অপ্রয়োজনীয় পানি মূত্রনালীর মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। আর তাই পর্যাপ্ত পানি পান করার পর কিংবা তরলজাতীয় খাবার খাওয়ার পর দিনে কয়েকবার টয়লেটে যাওয়ার প্রয়োজন হয়।

ব্লাডার বা মূত্রথলিতে ১৫ আউন্স বা ৮ গ্লাস পরিমান লিকুইড বা পানি জমা রাখতে পারে। যখন ব্লাডারে ইউরিনের চাপ পড়ে তখন মস্তিষ্কে সংকেত পাঠায় ব্লাডার খালি করার জন্য। আপনি যদি মস্তিষ্কের সংকেতকে কোনো পাত্তা না দিয়ে কাজে লেগে থাকেন দেখা যাবে একসময় আপনি এ সংকেত সহজে বুঝতে পারবেন না।

ব্লাডারে ইউরিন বেশি সময় জমে থাকলে সেখানে ব্যাকটেরিয়া জন্মে। এতে করে ব্লাডার বা মূত্রথলিতে ইনফেকশনসহ কিডনির ক্ষতি হতে পারে। আর তাই পুরুষ কিংবা মহিলা কারো ক্ষেত্রেই প্রস্রাবের বেগ আটকে রাখা ঠিক নয়। এতে মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকির আশংকা রয়েছে। টরন্টো ন্যাচারোপ্যাথিক হেলথ ক্লিনিকের চিকিৎসক ডা. শ্যামানদিপ বালি হাফিংটনপোস্টের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

টয়লেটের পরিবেশ এমন রাখা উচিত যাতে পরবর্তী ব্যবহারকারী স্বাচ্ছন্দ্যে ব্যবহার করতে পারেন। অনেক সময় নোংরা টয়লেটের কারণে অনেকে প্রাকৃতিক ডাকে সাড়া দিতে বিলম্ব করেন। আর তাই অনেক টয়লেটে এখন ভদ্রভাষায় লেখা থাকে

Must Like and Share 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*