বিজ্ঞানের আয়নায় প্রিয়নবীর (স) সুন্নত

র সূলুল্লাহ (স) এর কথা-কাজ, আচার-আচরণ, ইশারা-ইঙ্গিত তথা সব কর্মকাণ্ডকে শরিয়তের পরিভাষায় সুন্নত বলা হয়। রসূল (স) দৃঢ়কণ্ঠে ঘোষণা করেছেন, ‘আমি তোমাদের মধ্যে দু’টি জিনিস রেখে যাচ্ছি, তোমরা যতদিন পর্যন্ত এ দু’টি জিনিসকে আঁকড়ে ধরবে, ততদিন পথভ্রষ্ট হবে না—এর একটি হচ্ছে আল্লাহর কিতাব ‘আল কোরআন’ আর অপরটি হাদীস তথা সুন্নত।’

রসূল (স) থেকে এমন কোনো সুন্নত বর্ণিত নেই যা বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে ক্ষতিকর কিংবা ফায়দাহীন। মানুষের জ্ঞানের পরিধির স্বল্পতার কারণে কোথাও অসামঞ্জস্য মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে তা নয়। রসূল (স) ছিলেন উম্মতের রূহানী ডাক্তার। আমরা জানি, খতনা বা মুসলমানি একটি সুন্নত। এটা পুরুষাঙ্গের ক্যানসার প্রতিরোধ করে। রসূল (স) ঢিলেঢালা পোশাক পছন্দ করতেন। বিজ্ঞান বলে, ঢিলেঢালা পোশাক পরলে শরীরের রক্তপ্রবাহ স্বাভাবিক থাকে। এর দ্বারা অনেক চর্ম রোগ থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। হূদরোগ বিশেষজ্ঞরা রোগীদেরকে ঢিলেঢালা পোশাক পরার কথা বলেন। রসূলের (স) ঘুমানোর বিছানা ছিল চামড়ার। নিচে ছিল খেজুরের ছাল। এতে বিছানাটি বেশ শক্ত হতো। আজকের বিজ্ঞানও বলে, নরম বিছানার চেয়ে শক্ত বিছানায় শোয়া উপকারী।

শক্ত বালিশে শোয়াও স্বাস্থ্যসম্মত। শরীরের অনেক বাত-ব্যথা নিরাময় হয় শক্ত বিছানা ও বালিশে। অন্যদিকে বসে বসে পানি পান করা সুন্নত। বিজ্ঞান বলে, দাঁড়িয়ে পানি পান করলে তা পুরো শরীরে একটি চাপ ফেলে। এতে কিডনির সমস্যা হতে পারে; স্নায়ুতন্ত্র দুর্বল হয়ে পড়তে পারে। থেমে থেমে কয়েক দফা নিঃশ্বাস ফেলে পানি পানের কথা বলা হয়েছে হাদিসে। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রাণীর নিঃশ্বাস ও ফুঁকের সঙ্গে কার্বনডাই অক্সাইড বের হয়। আর এ কার্বনডাই অক্সাইড যখন পানির সঙ্গে গিয়ে মিশ্রিত হয়, তখন তা থেকে কার্বলিক এসিড তৈরি হয়। রসূল (স) বলেছেন, ‘তোমরা উদর পূর্তি করে ভোজন করো না, কেননা এতে তোমাদের অন্তরে আল্লাহ পাকের আলো নিষ্প্রভ হয়ে যাবে।’ এখন চিকিত্সাবিজ্ঞান বলছে, অতিভোজনের ফলে ডায়াবেটিস, হূদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, স্ট্রোক, প্যারালাইসিস ইত্যাদি হতে পারে।

রসূল (স) ডান কাত হয়ে শুতেন। তার ডান হাত রাখতেন ডান গালের নিচে। সাহাবিদেরকেও এভাবেই শুতে বলতেন। বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, ডান কাতে শোয়াই অধিক স্বাস্থ্যসম্মত। এতে হূদপিণ্ডের ওপর চাপ পড়ে কম। পেটের ভেতর ভারি যকৃত্ ঝুলে থাকে না। ফলে পাকস্থলির ওপর চাপ পড়ে না। পাকস্থলির স্বাভাবিক নড়াচড়া ঠিক থাকে এবং পাকস্থলির ভেতরের খাদ্যদ্রব্য হজমের উপযোগী হয়ে সহজেই খাদ্যনালীর পরবর্তী অংশে চলে যেতে পারে। আবার সহীহ মুসলিম শরীফের হাদিস অনুযায়ী পবিত্রতা ইমানের অঙ্গ। এর একটি দিক হল ইস্তেঞ্জা। এটা পানি, মাটির ঢেলা বা উভয়ের দ্বারা করা উচিত। এর বিপরীতে টয়লেট পেপার ব্যবহার ক্ষতিকর যাতে লজ্জাস্থানের ক্যান্সার, ফিস্টুলা ও চর্মের ইনফেকশন হতে পারে। আর রসূলের (স) সুন্নত মিসওয়াক অ্যান্টি সেপটিকের কাজ করে। এমন কিছু জীবাণূ আছে যা প্রচলিত ব্রাশ ও পেস্ট দ্বারা দূর করা সম্ভব নয়। এতে সত্তরেরও অধিক উপকারিতা রয়েছে।

সুন্নত মোতাবেক জীবন যাপনে যেমন অসংখ্য ফায়দা ও উপকার রয়েছে, তেমনি তা পরিত্যাগের ভয়াবহতা ও অনিষ্ঠতাও অনেক। সুন্নত পালনে শৈথিল্য ও অবহেলার কারণে মানুষ নানাবিধ বিপর্যয়েরও সম্মুখীন হয়। বর্তমান বিজ্ঞানময় এই পৃথিবীতে সুখ-সমৃদ্ধির সঙ্গে বাস করতে হলে বিজ্ঞান সমর্থিত ও অসমর্থিত সুন্নতে রসূলের ওপর আমল করার কোনো বিকল্প নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*