পুরুষসঙ্গী ছাড়াই ৮ সন্তান জন্ম দিলেন এই নারী

তাঁর প্রকৃত নাম নাতালি সুলেমান। কিন্তু দুনিয়া তাঁকে চেনে ‘অক্টোমাম’ হিসেবেই। ‘অক্টো’ অর্থে আট, আর ‘মাম’ তো মা। তাঁর এ হেন পরিচিতির সঙ্গত কারণও রয়েছে। ২০০৯ সালে এক সঙ্গে আটটি সন্তানের জননী হয়ে খবরের শিরোনামে এসেছিলেন তিনি।

বিষয়টি শুনতে যতই আজগুবি লাগুক না কেন, সত্যিই এক সঙ্গে আটটি সন্তানের জন্ম দিয়েছিলেন নাতালি। এবং কোনও পুরুষ-সঙ্গীর সাহায্য ছাড়াই এতগুলি সন্তানের মা হয়েছিলেন তিনি।

১৯৯৬ সালে মার্কিন এই মহিলার বিয়ে হয় মার্কো গুতিরেজের সঙ্গে। ২০০৬ সালে ডিভোর্সও হয়ে যায়। মার্কো নাতালিকে কোনও সন্তান দিতে পারেননি। সেটাই ছিল তাঁদের বিচ্ছেদের প্রধান কারণ। আনুষ্ঠানিক ডিভোর্সের অনেক আগে থেকেই দু’জনে আলাদা থাকতে শুরু করেছিলেন।

সেই সময় থেকেই ইন-ভিট্রো ফার্টিলাইজেশন (আইভিএফ), অর্থাৎ সাধারণ ভাবে যাকে টেস্ট টিউব বেবি বলা হয়, সেই পদ্ধতিতে মা হওয়ার চেষ্টা চালাতে থাকেন নাতালি। ১৯৯৭ সালে, নাতালির বয়স যখন ২১, সেই সময় থেকেই ডাক্তার মাইকেল কামরাভার তত্ত্বাবধানে শুরু হয় চিকিৎসা। পরবর্তী বছর ছ’য়েকের মধ্যে ছ’টি সন্তানের (চারটি ছেলে দু’টি মেয়ে) জন্ম দেন নাতালি।

২০০৮ সালে জানা যায়, আগের আইভিএফ চিকিৎসার পরিণামে নাতালির গর্ভে ছ’টি ভ্রূণ নিষ্ক্রিয় অবস্থায় রয়ে গিয়েছে। নাতালি ভ্রূণগুলিকে তাঁর জরায়ুতে সঞ্চারিত করার জন্য অনুরোধ করেন ডাক্তারকে। সঙ্গে যুক্ত হয় আরও দু’টি নতুন ভ্রূণ। সব মিলিয়ে ২০০৯ সালে মোট আটটি সন্তানের জন্ম দেন নাতালি। আমেরিকার মাটিতে সুস্থ এবং জীবিত অক্টোপ্লেটস-এর জন্ম দেওয়ার ঘটনা এই নিয়ে দ্বিতীয় বারের জন্য ঘটে।

এর পরেই আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের শিরোনামে চলে আসেন নাতালি। কিন্তু সকলের অভিনন্দনের জোয়ারে যে তিনি ভেসে যাচ্ছিলেন, এমনটা নয়। আমেরিকায় সরকারি নিয়ম অনুসারে, অনাথা সিঙ্গেল মম-রা সরকারের কাছ থেকে সন্তানের মাথা পিছু একটা ভাতা পান। যখন সংবাদে প্রকাশ পায় যে, নাতালি বেকার, এবং চোদ্দটি সন্তানের জননী, তখন শুরু হয় বিতর্ক।

সন্তানের জন্ম দিয়ে নাতালি আসলে নিজের রুজিরুটির বন্দোবস্ত করছেন, এবং সাধারণ করদাতাদের পকেট থেকে যাচ্ছে নাতালি এবং তাঁর সন্তানদের ভরণ-পোষণের অর্থ– এমন বক্তব্য তুলে ধরে প্রতিবাদে সরব হন অনেকেই। নাতালির সন্তানধারণের কেস স্টাডি করার পরে, মেডিক্যাল বোর্ড অফ ক্যালিফোর্নিয়া ডাক্তার কামরাভার লাইসেন্স বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেয়। তাঁর বিরুদ্ধে রোগীকে বিপদের মুখে ঠেলে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।

এর পর কেটে গিয়েছে সাত বছর। অনেক ঝড়ঝাপটা বয়ে গিয়েছে নাতালির উপর দিয়ে। নিজের সন্তানদের ভরণ-পোষণের জন্য পর্ন ফিল্মে পর্যন্ত অভিনয় করতে হয়েছে নাতালিকে। তবে এখন নিজের চোদ্দ ছেলে মেয়েকে নিয়ে সুখেই রয়েছেন নাতালি। সরকারি সাহায্যেই চলছে সংসার।

ইতিমধ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রপত্রিকায় প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে নাতালিকে নিয়ে। বহু টেলিভিশন অনুষ্ঠানে দেখা গিয়েছে নাতালির মুখ। ডক্যুমেন্টারি তৈরি হয়েছে তাঁকে নিয়ে। একসময়ে যেমন চোদ্দটি সন্তানের জননী হওয়ার কারণে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি, পরবর্তী কালে তেমনই অনেকে তাঁর এই সাহসী সিদ্ধান্ত এবং অপার মাতৃস্নেহকে কুর্নিশ না করেও পারেননি।

Must Like and Share 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*