বিশ্বের শীর্ষ ধনী পুরুষদের স্ত্রীরা

অনেকেই মনে করেন যে, বিলিয়নিয়ারদের স্ত্রীগণ সব আদুরে সুপারমডেল। যারা তাদের সময় শুধু বিভিন্ন অনুষ্ঠান এবং হেয়ারড্রেসার নিয়ে ব্যয় করে থাকে। কিন্তু সত্যিই কী তারা এমন প্রকৃতির? আসুন জেনে নিন বিশ্বের কয়েকজন শীর্ষ ধনী ব্যক্তির স্ত্রী সম্পর্কে।

মার্ক জাকারবার্গ এবং প্রিসিলা চ্যান
নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ফোবর্সের হিসাব অনুযায়ী, ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী ৩২ বছর বয়সী মার্ক জাকারবার্গের মোট সম্পত্তি ৫ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। তিনি হার্ভার্ডে ছাত্র থাকাকালীন প্রিসিলা চ্যানের সঙ্গে পরিচিত হন। চ্যান সবসময় তার প্রচেষ্টার সমর্থন করতেন এবং তার সাফল্যলাভে বিশ্বাসী ছিলেন। ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল স্কুলের স্নাতকের পাট সম্পন্ন করেছেন চ্যান। ২০১২ সালে মার্ক জাকারবার্গ এবং প্রিসিলা চ্যান বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন। গত বছর তাদের ঘরে এসেছে মেয়ে ম্যাক্স। তার জন্মের সময় মোট সম্পদের ৯৯ শতাংশ দাতব্য কাজে খরচের ঘোষণা দিয়েছে এ দম্পতি। জাকারবার্গ ও চ্যান মিলে কাজ করছেন ‘দ্য চ্যান জাকারবার্গ ইনিশিয়েটিভ’ নামের একটি দাতব্য উদ্যোগে, যা ২০১৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়। এই উদ্যোগের মাধ্যমে চলতি শতকের মাধ্যমেই এ বিশ্ব থেকে রোগবালাই নির্মূলে ৩০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করা হচ্ছে।

ওয়ারেন বাফেট এবং অ্যাস্ট্রিড মেনঙ
ওয়ারেন বাফেট বিশ্বের সবচেয়ে বিখ্যাত বিনিয়োগকারীদের মধ্যে একজন। নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ফোবর্সের হিসাব অনুযায়ী, তার সম্পদের পরিমান ৭ হাজার কোটি ডলারেরও বেশি। ওয়ারেন বাফেট ১৯৫২ সালে বিয়ে করেন সুসান থম্পসনকে। ২০০৪ সালের জুলাই মাসে স্ত্রী সুসান মারা যান। এর আগে ১৯৭৭ সাল থেকে তাদের বিচ্ছেদ না ঘটলেও তারা আলাদা বসবাস করতেন। ওয়ারেন বাফেট ২০০৬ সালে ৭৬তম জন্মদিনে বিয়ে করেন তার দীর্ঘ দিনের সঙ্গী অ্যাস্ট্রিড মেনঙকে। তিনি ১৯৭০-এর দশকে অ্যাস্ট্রিড এর সঙ্গে পরিচিত হন যখন অ্যাস্ট্রিড একজন খাদ্য পরিবেশিকা হিসেবে কাজ করতেন। তাদের মধ্যে বয়সের পার্থক্য ১৬ বছর কিন্তু তাদের ভালোবাসা সব কিছু অর্জনে বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে গত ১১ বছরে ২ হাজার ৪৩০ কোটি ডলার দান করেছেন বাফেট। তার কোম্পানি বার্কশায়ার হ্যাথাওয়ের মালিকানাধীন মোট প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৯০। কোকা-কোলা, আইবিএমের মতো বড় প্রতিষ্ঠান থেকে শুরু আইসক্রিম, বিমার মতো বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ আছে প্রতিষ্ঠানটির। বাফেট তার মোট সম্পত্তির ১৫ শতাংশের মধ্যে মাত্র ১ শতাংশ রেখে বাকি ১৪ শতাংশও দান করে দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। এই প্রতিজ্ঞা পত্রে তিনি বলেছেন তার মৃত্যুর ১০ বছরের মধ্যে তার সমুদয় সম্পত্তির ৯৯ শতাংশ সাধারণ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করে ফেলতে।

বিল এবং মেলিন্ডা গেটস
নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ফোবর্সের হিসাব অনুযায়ী, মাইক্রোসফটের প্রতিষ্ঠাতা বিল গেটস সম্পত্তির পরিমান ৮ হাজার কোটি ডলারের বেশি। ১৯৮০ সালের শেষের দিকে মাইক্রোসফট আয়োজিত এক সম্মেলনে বিল গেটস তার ভবিষ্যত স্ত্রীর সঙ্গে পরিচিত হন। তারা ১৯৯৪ সালে বিয়ে করেন। বিল গেটস ও মেলিন্ডা গেটস বিশ্বের সর্ববৃহৎ দাতব্য তহবিলের প্রতিষ্ঠাতা। ২০০০ সালে বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন এই দম্পতি। বিশ্বের খাদ্য, স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ক্ষেত্রের নানা সমস্যা দূর করার জন্য কাজ করছে তাদের সংগঠন।

ল্যারি পেজ এবং লুসিন্ডা সাউথওর্থ
সার্চ জায়ান্ট গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজ। নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ফোবর্সের হিসাব অনুযায়ী, তার মোট সম্পত্তি ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি। লুসিন্ডা সাউথওর্থ তার থেকে ৭ বছরের ছোট। লুসিন্ডা সবসময়ই পাবলিক মনোযোগ এড়ানোর চেষ্টা করে থাকেন। এটা জানা যায় যে, তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক শুরু হওয়ার মাত্র কয়েক মাস পরেই তারা বিয়ে করেন।

জেফ এবং ম্যাকেঞ্জি বেজোস
জেফ বেজোস হচ্ছেন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ই-কমার্স সাইট আমাজনের প্রতিষ্ঠাতা। নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত তার সম্পত্তির পরিমাণ ৬ হাজার কোটি ডলারের বেশি। তিনি ১৯৯২ সালে তার ভবিষ্যত জীবনসঙ্গীর সঙ্গে পরিচিত হোন। পরবর্তীতে ম্যাকেঞ্জি ভোগ ম্যাগাজিনকে এক সাক্ষাৎকারে বলেন, ‘আমার অফিস তার অফিসের পাশে ছিল এবং একদিন আমি তার সুন্দর হাসির শব্দ শুনতে পাই। তারপর কেন আমি তার প্রেমে পরব না বলুন? এক বছর পরে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন।

রিচার্ড এবং জোয়ান ব্র্যানসন
ভার্জিন গ্রুপের এই প্রতিষ্ঠাতার নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত সম্পত্তির পরিমাণ ৫০০ কোটি ডলারের বেশি। রিচার্ড তার ভবিষ্যত পত্নীর প্রথম দেখা পান একটি প্রাচীন শিল্পকর্মের দোকান, তবে জোয়ান সেসময় বিবাহিত ছিলেন। পরবর্তীতে জোয়ান তার পূর্বের স্বামিকে ডিভোর্স দিয়ে রিচার্ডের সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন।

আমানসিয়ো ওর্তেগা এবং ফ্লোরা পেরেজ মারকোটে
এই ভাগ্যবান লোকটি যিনি ইন্ডিটেক্স এর মালিক এবং বৃহত্তম ফ্যাশন কোম্পানি যেমন: জারা, মাসিমো, দুট্টি, পুল অ্যান্ড বিয়ার, স্ট্রাদিভেরিয়াস, বার্সকা, ওইসো, ইউটেক, লেফটিস- নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত তার মোট সম্পদের পরিমান ৭ হাজার কোটি ডলারের বেশি। ফ্লোরা দীর্ঘ সময় ধরে আমানসিয়োর সিক্রেটারি হিসেবে কাজ করেন এবং ২০০১ সালে তারা বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন।

স্টিফান এবং ক্যারোলিন পারসন
স্টিফান পারসন যিনি কিনা বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠান এইচঅ্যান্ডএম পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান, তিনি ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক। তার স্ত্রী ক্যারোলিন উচ্চবিলাসি সমাজের কোনো টিপিক্যাল চরিত্র নয়। স্টিফান নিজেকে সবসময় খবর থেকে এড়ানোর চেষ্টা করে। এই দম্পতি খুব সাধারণ জীবনযাপন করেন।

বার্নার্ড আরনল্ট এবং হেলেন মার্সিয়ার
অনেকগুলা নামাদামী ফ্যাশন হাউসের মালিক বার্নার্ড, নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত ফোর্বসের তথ্যানুসাযায়ী ৩ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক। সংগীতের কারণে হেলেনের সঙ্গে তার পরিচয় হয়েছিল। বার্নার্ড শাস্ত্রীয় কম্পোজিশনের ভালোবাসতেন এবং হেলেন একজন পেশাদারী পিয়ানোবাদক ছিলেন। এই দম্পতি ১৯৯১ সালে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হোন।

মাইকেল এবং সুসান ডেল
কম্পিউটার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ডেল-এর প্রতিষ্ঠাতা মাইকেল ডেল, নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত তার মোট সম্পদের পরিমান ২ হাজার কোটি ডলারের বেশি। সুসান একজন পেশাদার ক্রীড়াবিদ ছিলেন। এই আকর্ষণীয় ক্রীড়াবিদ সাঁতার, সাইকেলিং এবং দৌঁড়ে খুব দ্রুত গতিসম্পন্ন ছিলেন, যা দিয়ে তিনি ডেল এর হৃদয় জয় করেছিলেন।

মাইকেল ব্লুমবার্গ এবং ডায়ানা টেলর
মাইকেল ব্লুমবার্গ একজন রাজনীতিবিদ, উদ্যোক্তা, এবং নিউ ইয়র্কের সাবেক মেয়র। তিনি ৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি সম্পদের মালিক। তিনি তার প্রথম স্ত্রীকে তালাক দিয়ে ২০০০ সালে থেকে ডায়ানার সঙ্গে একটি নাগরিক অংশীদারির সম্পর্কে রয়েছে। এই দম্পতি বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বলেছেন যে, তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বিয়ে করার কোনো কারণ দেখছেন না।

ডেবিড ও জুলিয়া কচ
ডেভিড কচ বিনিয়োগ, তেল প্রক্রিয়াকরণ, রাসায়নিক উৎপাদন, কৃত্রিম তন্তু এবং প্লাস্টিক বাণিজ্য ব্যবসায়ী। নভেম্বর ২০১৬ পর্যন্ত তার মোট সম্পদের পরিমান ৪ হাজার কোটি ডলারের বেশি। তিনি ২০ বছর আগে জুলিয়া কচকে বিয়ে করেন এবং তাদের তিনটি সন্তান আছে। জুলিয়া খুব কমই জনসম্মুখে উপস্থিত হন এবং সে তার অধিকাংশ সময় পরিবার এবং কচ এর তহবিলের পিছনে দিয়ে থাকে।

Must Like and Share 🙂

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

*